ঢাকা ফুটবল লীগের দুই ডবল হ্যাট্রিকের স্মৃতি কথা

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের ফুটবল লীগের আকর্ষনীয় আসরের সুচনা হয়েছিলো ১৯৭২ সালে..যদিও সেবার লীগ সমাপ্তির মুখ দেখেনি কোন এক অদৃশ্য কারনেই..পরের বছরে প্রথম লীগ চ্যাম্পিয়নের স্বাধ নিয়েছিলো বিআইডিসি..এরমাঝে দেখতে দেখতে ফুটবল মরসুমের চলিøশটি বছর গড়িয়ে গেছে..আর এই চার দশকে মনমাতানো ও স্মৃতিপটে ধরে রাখার মত ডবল হ্যাট্রিক দেখা হয়েছে ফুটবল প্রেমিকদের মাত্র দু-দুবার..বাংলাদেশের ফুটবলের দুই দিকপাল..দুই উজ্জল নক্ষত্র..খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় ষ্ট্রাইকার মেজর(অবঃ) হাফিজউদ্দিন ও সালাউদ্দিনই আমাদের উপহার দিয়েছিলেন দুটো অসাধারন ডবল হ্যাট্রিক..দুটো হ্যাট্রিকই আসে ১৯৭৩ সালে..স্বাধীন বাংলাদেশের লীগ ফুটবলে প্রথম ডবল হ্যাট্রিকটি করেছিলেন হাফিজউদ্দিন..তার কিছু পরেই সালাউদ্দিন ডবল হ্যাট্রিকটি করেন আরেক রের্কড সৃষ্টির মাঝে..গড়েন এক খেলায় সর্বোচ ৭ গোল করার অসাধারন রের্কড..যা আজও অম্লান রয়ে গেছে..

হ্যাট্রিক-ডবল হ্যাট্রিক আর গোলের পর গোল করে এই দুই তুখোর ষ্ট্রাইকার ছিলেন যেমন দর্শকদের মধ্যমনি তেমনি অনেক বিজয়ের নায়ক..খেলা ছেড়ে এদুজনেই ভিন্ন দুই জগতে আজ সফলই শুধু নয় প্রতিষ্টিতও বটে..সালাউদ্দিন খেলা ছেড়েছেন তবে ফুটবলকে ছাড়েননি..ছিলেন আবাহনী ও মুক্তিযোদ্বা দলের একজন সফল কোচ..জাতীয় দলের ও কোচ ছিলেন..বর্তমানে দুদফায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সফলতম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন..মজার ব্যাপার মেজর হাফিজও বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন..এরপর রাজনীতিতে জড়িয়েও নিজেকে প্রতিষ্টিত করেছেন হাফিজউদ্দিন..জাতীয় পার্টি ও বিএনপির শাসনামলে মন্ত্রীও ছিলেন..

মোহামেডানের তুখোর ষ্ট্রাইকার হাফিজউদ্দিন লীগের প্রথম ডবল হ্যাট্রিকটি করেছিলেন ফায়ার সার্ভিস দলের বিরুদ্বে..প্রথমার্ধের ৩৩ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে নেন হাফিজ..সুরুজের লব থেকে উড়ন্ত হেডে দর্শনীয় গোলটি করেন হাফিজ..তবে ঠিক তার পরপরেই ফায়ারের আমান গোল করে যেমন সমতা ফেরান তেমনি খেলার আকর্ষন ও উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলেন..প্রথমার্ধ ১-১ গোল থেকে যায়..কে জানত দ্বিতীয়ার্ধে দারুন ভাবে জ্বলে উঠবেন মেজর হাফিজ আর দল বড় ব্যবধানে জয় পাবে..দ্বিতীয়ার্ধের ৯মিনিটে আবারও গোল করে দলকে এগিয়ে নেন হাফিজ..খেলা চলতে থাকে আক্রমন পাল্টা আক্রমনের মাঝেই..তবে শেষার্ধের মাঝামাঝিতে গিয়ে আবারও হঠাৎ করেই রীতিমত জ্বলে উঠলেন হাফিজ..মাত্র ৪ মিনিটের ব্যাবধানে দলীয় ভক্তদের মাতিয়ে তুলে তুমুল করতালির মাঝে তিন তিনটি গোল করে মাঠ গরম করে তোলেন..হয়ে যায় নিজের ৫ গোল..ডবল হ্যাট্রিক দেখার আশায় দর্শকদের উৎকন্ঠা তখন চরমে..সুযোগের অপেক্ষায় গোলের নেশায মগ্ন ছিলেন হাফিজ..অতঃপর খেলা শেষের কিছু আগেই চতুরতার সাথে দর্শনীয় গোল করে হাফিজ দর্শকদের যেমন আনন্দ দেন তেমনি অতুলোনীয় কীর্তি গড়ে রের্কডের পাতায় নিজের নামটি লিখিয়ে নেন..১৯৭৬ সালে লীগে সর্বোচ গোলদাতা হওয়া ছাড়াও নানা খেলায় হ্যাট্রিক-ডবল হ্যাট্রিক আর গোলের পর গোল করে নিজেকে আলাদা ভাবে তুলে ধরেছিলেন হাফিজউদ্দিন..ছিলেন মোহামেডানের অনেক ম্যাচের জয়ের নায়ক..তবে দুখঃজনক ও অবাক হলেও সত্য খ্যাতিমান ষ্ট্রাইকার মেজর হাজিউদ্দিনকে কোন এক অজানা কারনে বলা যায় চক্রান্ত করেই জাতীয় দলে একবারও সুযোগ দেয়া হয়নি..যা কিনা হাফিজউদ্দিনের খেলোয়াড়ী জীবনের বড় বেদনাদায়ক ও হতাশার এক অধ্যায়..সন্দেহ নেই এ দিকটা যে আজও তাকে পীড়া দেয়..

অপর দিকে একই মরসুমে জনপ্রিয় ও দেশ সেরা ষ্ট্রাইকার সালাউদ্দিনের চমকপ্রদ ডবল হ্যাট্রিকটি ছিলো দিলখুশার বিরুদ্বে..যে ম্যাচে আবাহনী সবচেয়ে বড় ব্যবধানে রের্কড পরিমান ১০-০ গোলে জয়ের স্বাদ নেয়..অতুলোনীয় ডবল হ্যাট্রিকের রের্কডই শুধু নয় এ খেলায় সালাউদ্দিন এক খেলায় সর্বাধিক ৭ গোল করার অসাধারন আরেক রের্কড সৃষ্টি করে ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটি যেন বড় করে লিখে রাখেন..ম্যাচে সর্বোচ ৭ গোলের রের্কডটি আজও অম্লান হয়ে আছে..

সালাউদ্দিন টানা ৫ গোল করার পর যেন থমকে যান..কোন কিছুই হচ্ছিলোনা যেমনটি চাওয়ার..স্বতীর্থরা গোলের সুযোগ পেয়েও বল বাড়িয়ে দেন সালাউদ্দিনের দিকে..হয়নি কোন কাজের কাজ..তাই হতাশা যেন বাড়তে থাকে..অতঃপর  দ্বিতীয়ার্ধের ২৯ মিনিটে আসে সেই স্মরনীয় মহুর্তের ক্ষনটি অনেকটা একক প্রচেষ্টায় চমৎকার একটি গোল করে সালাউদ্দিন দুর্লভ ডবল হ্যাট্রিক করে দারুন কৃতিত্ব দেখান..শেষ দিকে অনেকটা সৌভাগ্যক্রমে পাওয়া পেনাল্টি থেকে সালাউদ্দিন গোল করে ম্যাচে সর্বাধিক ৭ গোলের অনন্য রের্কডটি গড়েন..১০ গোলের অপর তিনটি করেন গফুর-অমলেশ ও টিপু..

7 Responses to “ঢাকা ফুটবল লীগের দুই ডবল হ্যাট্রিকের স্মৃতি কথা”

  1. kishore

    Oct 01. 2012

    Excellent and informative collection, Kiron bhai! Bhule jawa eisob newsguli ei projonmer sobaike janate aapnar nisshartho chestar onek proshongsha kori!

    Reply to this comment
  2. Sayestha Khan

    Oct 01. 2012

    IF A PLAYER SCORES A DOUBLE HATRICK,ONE DAY HE WILLBE EITHER PRESIDENT OR GS OF BFF.

    Reply to this comment
    • admin

      Oct 02. 2012

      My dear Sir….tnx a lot for wonderful comments..darun mojar kothai tule dhorlen…

      Reply to this comment
  3. ইমরান

    May 12. 2015

    সালাহউদ্দিন বাংলাদেশের একজন গ্রেট ফুটবলার । আমি যতটুকু জানি , উনি ১৯৮৪ সালে লীগে মোহামেডানের বিপক্ষে জীবনের শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন । আমার জানতে ইচ্ছা হচ্ছে , উনি কি জীবনের শেষ খেলায় জয় দিয়ে তার খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করতে পেরেছিলেন ? কেউ জানেন কি ? কারন , বাস্তবে দেখা যায় অধিকাংশ কিংবদন্তি তার জীবনের শেষ খেলায় হেরে গিয়েছিলেন ।

    Reply to this comment
    • admin

      Jun 07. 2015

      …thanks dear IMRAN bhai for your comments…yes tai hoyechilo…i mean sei match a Salauddiner dol AKC here jay MSC er kache…khelay msc 1-0 goal aagiye thakha obosthay poritaktto hole bff msc ke 2-0 goal a joyi ghoshona korechilo…

      Reply to this comment
  4. ইমরান

    Jun 18. 2015

    এডমিন ভাই , তথ্য দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । আমার সালাম নিবেন ।

    Reply to this comment
  5. ইমরান

    Jun 18. 2015

    এডমিন ভাই , আমি ১৯৭৮, ১৯৮০, ১৯৮২ , এবং ১৯৮৩ সালের ফুটবল লীগের আবাহনী – মোহামেডান দুই পর্বের খেলার ফলাফল জানতে চাই । আপনার উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম । ভাল থাকবেন ।

    Reply to this comment

Leave a Reply