ইতিহাসের পাঁতায় দেশের ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরীর অজানা স্মৃতিকথা

100 all-1…বাংলাদেশের ক্রিকেট ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছে আজ অনেক দূর…সময়ও কাটানো হয়ে গেছে পাঁচ দশক…স্বাধীন বাংলাদেশের ঢাকার ক্রিকেট শুরু হয়েছিলো ১৯৭২-৭৩ মরসুমে…তবে কোন এক অজানা কারনে ‘৭৩-৭৪ এর প্রথম ঢাকা লীগ শুরু হয়েও শেষ হয়নি হঠাৎ থমকে যাওয়ার কারনে…অতঃপর ’৭৪-৭৫ এ সমাপ্ত প্রথম ঢাকা ক্রিকেট লীগে শান্তিনগরকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে নেয় আলিউল-রিজভী-বাদশা-কালিচরন বাবু-নওয়াব-হাসান-জিয়া-চার্চিল-মুকুল-মামুন ও শেখ কামালের দল আবাহনী ক্রীড়া চক্র…সে যাই হোক আজ অনেক বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট মাথা উচু করে দাড়িয়েছে…এরই মাঝে রের্কডের পাঁতায় অনেক কিছুই লেখা হয়ে আছে…প্রথম দুর্লভ কীর্তি গড়ে স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছেন অনেকেই…যে সব স্মৃতি ভুলে যাবার নয় তবে দুঃখজনক হলেও সত্য ভুলেই যাওয়া হয়েছে অনেক অনন্য কীর্তির কথা…আসলে আমাদের এখানে অতীতের সুখকর স্মৃতি গুলো নিয়ে মেতে থাকা হয়না তেমন একটা…রের্কড ধরে রাখা যাদের বড় দায়িত্ব সেই ক্রিকেট বোর্ডেরও তা নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথাও যেন নেই.. রের্কড-ছবিত নেই এমনকি সেই প্রথম দিককার খেলার ভিডিও বোর্ডের সংরক্ষনে আছে বলা যাবে না…সবারই ব্যাস্থতা বর্তমান নিয়ে…

…অতীত ভুলে যাওয়াটা সত্যি দুঃখজনক…অতীতকে আগলে ধরেইত এগুতে হবে সামনে…তেমনি অতীত তারকাদের যথাযত সম্মান প্রদর্শন না করাটা কাম্য নয়…কদিন আগে প্রাক্তন এক খ্যাতিমান জাতীয় তারকা ক্রিকেটার দুঃখ করেই বলছিলেন বোর্ড হতে একটা সৌজন্য টিকেট পাওয়া হয় তবে টাকা দিয়ে কিনতে চাইলেও ফ্যামিলী সহকারে খেলা দেখার জন্য বাড়তি টিকেট পাওয়া হয়না…এব্যাপার গুলো হতাশারই জম্ন দেয়…যাক গে সে কথা আজ এখানে তুলে ধরছি বাংলাদেশের ক্রিকেটের এযাবৎকালের প্রথম গড়া স্মৃতিময় দুর্লভ সেঞ্চুরীর ওমর কীর্তির কথা…যে রের্কড গুলো ইতিহাসের পাঁতায় ঠাই করে নিয়েছে…যা আছে হয়ত অনেকেরই স্মৃতির মনি কোঠায় জ্বল জ্বলে হয়ে…এবং খাকবে অনন্ত কাল…ওসব অসাধারন নজীড় গুলো যে ভুলে যাবার নয় কিছুতেই…শতরানের অনন্য কীর্তি গড়ে যেসব ক্রিকেটার ইতিহাসের পাঁতায় চীর স্মরনীয় হয়ে আছেন এবং থাকবেন তারা হলেন জহির-রকিবুল হাসান-সদরুল আনাম-দীপু রায় চৌধুরী-গাজী আশরাফ লিপু-ইউসুফ বাবু-রফিকুল আলম রফিক-তারিকুজ্জামান মুনির-সৈয়দ আশরাফুল হক-মেহরাব হোসেন অপি-আমিনুল ইসলাম বুলবুল-মুশফিকুর রহিম-মোহাম্মদ আশরাফুল-সোহাগ গাজী-আবুল হোসেন-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-তামিম ইকবাল-নাফিস ইকবাল এবং সেই সাথে আজহার হোসেন শান্টু-কাজী সালাউদ্দিন-অষ্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ইয়ান উইলা এবং ক্রীড়া সাংবাদিক ক্রিকেটার কামরুজ্জামান…

…স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম শতরানের কথা এর আগে বেশ কবারই তুলে ধরেছি…যা হয়ত সবারই যানা…আবারও বলছি ১৯৭৫ সালের জাতীয় ক্রিকেটের আসরেই প্রথম বারের মত সেঞ্চুরীর দেখা মিলেছিলো ক্রিকেট ভক্তদের…যে অনন্য রের্কডটি গড়েছিলেন মরহুম আহসান জহির…ঢাকা ষ্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেটের ফাইনালে বরিশালের মারকুটে ব্যাটসম্যান জহির কুমিল্লা জেলার বিরুদ্ধে প্রথম শতরানের মালিক হয়ে ইতিহাসের পাঁতায় স্থায়ী ভাবে নিজের নামটি লিখিয়ে নেন…সে ম্যাচে ওয়ান ডাওনে নেমে জহির ২৬০ মিনিট ব্যাট করে ৭টি দর্শনীয় চারের মার মেরে ১০১ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন…যদিও জহিরের শতক সত্বেও তার দল বরিশাল ফাইনালে খেলায় হেরে যায়…কুমিল্লার ৩০০ রানের জবাবে বরিশাল ২৩১ রানে অল আউট হলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে কুমিল্লা জেলা জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো…

100 all-2a…দেশের ক্রিকেটের প্রান কেন্দ্র ঢাকার ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরীর কথা বা ঢাকা ক্রিকেট লীগে প্রথম শতরানের কথা অনেকেরই মনে থাকার কথা নয়…কিংবা অনেকেই ভুলেই গেছেন…আমার সংগ্রহের ভান্ডারে থাকার পরও অনেক অতীত দিনের তারকা ক্রিকেটারের সাথে কথা বলে দেখেছি কেউই স্মরন করতে পারছিলেন না…ঢাকার ক্রিকেটে প্রথম শতরানটি এসেছিলো আজাদ বয়েজের দেশ সেরা ওপেনার খ্যাতিমান ক্রিকেটার রকিবুল হাসানের ব্যাট থেকে…১৯৭৫ সালে শহিদ স্মৃতি ক্রিকেটের ফাইনালে মোহামেডানের বিরুদ্ধে রকিবুল অপরাজিত থেকে ১৪৩ রানের ঝলমলে এক ইনিংস উপহার দেন…রকিবুলের শতরানের সুবাদে সেবার প্রথম ট্রফি জয়ের স্বাধ নিয়েছিলো আজাদ বয়েজ ক্লাব…রকিবুলের ৫৫০ মিনিটের দীর্ঘ ধর্য্যশীল ইনিংসে মাত্র ৭টি চারের মার ছিলো…তিন দিনের ফাইনালে আজাদ বয়েজ ক্লাব ৩৪১ রান তুলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে মোহামেডানকে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলে নেয়…

…ওদিকে ঢাকা ক্রিকেট লীগে প্রথম সেঞ্চুরীর নজীড় গড়েছিলেন সদরুল আনাম…ঢাকা মোহামেডানের কৃতি ব্যাটসম্যান সদরুল ১৯৭৫-৭৬ মরসুমে ইগলেটসের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১০৪ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন…যার মাঝেছিলো ১টি প্রচন্ড ছক্কা ও ১১টি চারের মার…মোহামেডানের ৯ উইকেটে ২১৭ রানের জবাবে ইগলেটস ৯৪রানে ইনিংস শেষ করে হেরে যায়…

তবে মোহামেডান যদি ফেয়ার খেলা উপহার দিত তাহলে স্বাধীনতাত্তোর প্রথম শতরানটি নিজের করে নিতে পারতেন আবাহনীর খ্যাতিমান ব্যাটসম্যান ও দলনায়ক আলিউল…১৯৭৪-৭৫ মরসুমে লীগে জয়ের দ্বার প্রান্তে এসে ৯৯ রানে যখন অপরাজিত ছিলেন আলিউল তখন মোহামেডানের খেলোয়াড়েরা অনেকটা ইচ্ছেকৃত ও নির্লজ ভাবে অপর ব্যাটসম্যান বাবুকে রানের সুযোগ করে দিয়ে এমনকি অতিরিক্ত রান উপহার দিয়ে আবাহনীকে জয়সূচক রান তুলে নিতে সাহায্য করে আলিউলের শতরান করার পথ আটকে দেন…সেই ম্যাচে মোহামেডানের ২২৩ রান টপকে ৭ উইকেটে জয় পেয়েছিলো আবাহনী…

…ঢাকা লীগে তথা বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথম ডবল সেঞ্চুরীর দুর্লভ রের্কডটি গড়েছিলেন আশরাফুল হক…১৯৭৯-৮০ মরসুমে আজাদ বয়েজের তারকা ব্যাটসম্যান আশরাফুল হক ইলেভেন ষ্টারের বিরুদ্ধে ২০১ রান তুলেন…আজাদের ৩৯৬ রানের জবাবে ইলেভেন ষ্টার সংগ্রহ করে ৩২৯ রান…অবাক করা ব্যাপার ছিলো দুদলের বেশ কজন নিয়মিত ক্রিকেটার এদিন খেলেননি এবং খেলায় অনিয়মিত বোলারাই বেশী সময় বল করে যায়…যে কারনে খেলাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়…সে খেলায় ১৩৫ মিনিট ব্যাট করে ২৯ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কার সমাহারে আশরাফুল ২০১ রান তুলে নিতে সক্ষম হন…এরপর ১৯৮১-৮২ মরসুমে ২য় ডবল সেঞ্চুরীটি হাঁকিয়েছিলেন রকিবুল হাসান…ধানমন্ডি মাঠে জাতীয় ক্রিকেটের ৩দিন ব্যাপি সেমি ফাইনালে শিপিং করর্পোরেশনের হয়ে বগুড়ার বিরুদ্ধে রকিবুল মনমাতানো অপরাজিত ২১৪ রান তুলে দারুন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন…

100-mix-…এরপর আমাদের ক্রিকেটে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরীর দেখা মিলে ১৯৮৪-৮৫ মরসুমে…যে অতুলোনীয় দুর্লভ রের্কডটি গড়েছিলেন খাটোকায় কৃতি ব্যাটসম্যান তারিকুজ্জামান মুনির…ধানমন্ডি মাঠে জাতীয় ক্রিকেটের সেমী ফাইনালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে মুনির চট্রগ্রাম জেলার বিরুদ্ধে চোঁখ ধাধানো ট্রপল সেঞ্চুরীটি হাঁকিয়ে তাক লাগান…৫১০ মিনিটের দীর্ঘ সময়ের দারুন ধর্য্যশীল ইনিংসে মুনির ২৪টি দর্শনীয় বাউন্ডারী হাঁকিয়ে ৩০৮ রান তুলে মাসুমের বলে কিপার মাহমুদের হাতেক্যাচ তুলে আউট হন…রের্কড পরিমান দলীয় সর্বোচ ৬৮৫ রানের মাঝে মুনির ও আতহার আলী ৫ম উইকেট জুটিতে রের্কড সংখ্যক ৪১৭ তোলেন…আতহার হাঁকান ১৫৫ রান…এরপর ফাইনালেও বরিশালের বিরুদ্ধে শতরান (১২৫) রান সংগ্রহ করে রীতিমত চমক দেখান মুনির…বলা যায় মুনিরের চমকে সেবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় দল…মুনির যে ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরীর অনন্য রের্কড গড়েছিলেন সেদিন তারা তিন ভাই মিশা-মুনির ও তপন এক সাথেই খেলেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে…দু ভাই ও বাবার উপস্থিতিতেই অতুলোনীয় ট্রিপল হাঁকিয়ে মুনির যখন আউট হয়ে ফেরেন তখন চোঁখের জ্বলে তার বাবা বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন…বলতেই হয় ওটা ছিলো মুনিরের এক স্মরনীয় মহুর্ত…আর তাই ট্রিপল সেঞ্চুরীটা ক্রিকেট পাগল ও তাদের ভাল খেলার প্রেরনা দাতা বাবাকেই উৎসর্গ করেছিলেন মুনির…উলেখ্য যে জাতীয় ক্রিকেটে রের্কড গড়া ব্যাটসম্যান মুনির তারপর পরই সফরকারী শ্রীলংকার বিরুদ্ধে খেলার জন্য বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেয়েছিলেন…তবে এরপর আর একটি বারের জন্যও মুনিরকে খেলার সুযোগ দেননি নির্বাচকরা…

…বাঁ হাতি খ্যাতিমান দেশ সেরা অল রাউন্ডার দীপু রায় চৌধুরীর নামও আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে ঠাই করে নিয়েছে তার দুদুটো অসাধারন চৌকস নৈপূন্যের কারনেই…দীপু চৌধুরীই প্রথম আমাদের ক্রিকেটে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরীর অতুলোনীয় রের্কড গড়েছিলেন…১৯৮০ সালে বিভাগীয় জাতীয় ক্রিকেটে খুলনার হয়ে রাজশাহী বিভাগের বিরুদ্ধে দীপু এই দুর্লভ কীর্তিটি গড়ে তাক লাগান…দীপু উভয় ইনিংসে যথাক্রমে ১২২(১৩ চার) ও ১০৬(১৪ চার) রান সংগ্রহ করার পাশাপাশি ৪ উইকেট দখল করে তার দল খুলনা চ্যাম্পিয়ন হতে বড় ভ‚মিকা রাখেন…এছাড়া ঢাকা লীগে দীপু আরেকটি চমকপ্রদ রের্কড গড়েছিলেন প্রথমবারের মত…১৯৮০ সালে আবাহনীর দলনায়ক তূখোর অল রাউন্ডার দীপু গ্যান্ডারিয়া ক্রিকের্টাসের বিরুদ্ধে ব্যাট হাঁতে শতরান হাঁকানোর পাশাপাশি বল হাঁতে হ্যাট্রিক করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন প্রথমবারের মত…সে খেলায় দীপু হ্যাট্রিক সহ এক ওভারেই নেন ৪ উইকেট…

…ঢাকার ক্রিকেটের প্রথম বিদেশী ক্রিকেটার ছিলেন অষ্ট্রেলিয়ান ডেভিড ইয়ান উইলা…অষ্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন বলে ইয়ান উইলা খেলার সুযোগ পান…প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রিকেটার কামরুজ্জামান ও মরহুম আতাউল হক মল্লিকের গড়া ন্যাশনাল স্পোটিংয়ের হয়ে খেলেছিলেন ইয়ান উইলা…১৯৭৬ সালে ই্য়ান উইলা শহিদস্মৃতি ক্রিকেটে ইগলেটসের বিরুদ্ধে ১৭ দর্শনীয় চারের মারের সাহায্যে ১০৬ তুলে প্রথম বিদেশী হিসেবে শতরানের নজীড় গড়েছিলেন…এখানে স্মরনযোগ্য যে খ্যাতিমান ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রিকেটার কামরুজ্জামান ও মরহুম আতাউল হক মল্লিক এদুজন সে সময়ে নিয়মিত দাপটের সাথেই লীগ খেলে গেছেন…ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে ঢাকার লীগ ক্রিকেটের প্রথম শতরানের কৃতিত্বের অধিকারীও ছিলেন দক্ষ ব্যাটসম্যান কামরুজ্জামান…

…বাংলাদেশ দলের হয়ে যে কোন পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরীটি আসে গাজী আশরাফ লিপুর ব্যাট থেকে.. সেটা ছিলো দেশের বাইরে এক প্রীতি ম্যাচে…১৯৮২তে ২য় বারের মত ইংল্যান্ডে আইসিসি ট্রফি খেলতে গিয়েছিলো বাংলাদেশ দল…প্রস্ততি ম্যাচে বাংলাদেশ দল খেলতে নেমেছিলো ষ্টেনিলেন মাঠে সেলডন ক্লাবের বিরুদ্ধে…খেলায় লিপু অপরাজিত ১০৩ তুলে প্রথম শতক হাঁকান এবং বালাদেশকে(৪/২৬২) প্রতিপক্ষ সেলডন ক্লাবের(৮/১২৮) বিরুদ্ধে জয় এনে দেয়ার পেছনে মূখ্য ভূমিকা রাখেন…হোকনা প্রীতি ম্যাচ ওটাই ছিলো বাংলাদেশ দলের কোন ব্যটাসম্যানের প্রথম শতকের নজীড়…

…ওদিকে আইসিসির স্বীকৃত কোন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরী করে দারুন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন ঢ্যাশিং ওপেনার ষ্টাইলিশ ব্যাটসম্যান ইউসুফ রহমান বাবু…এটাও ছিলো দেশের বাইরে…ইংল্যান্ডে অনুষ্টিত ১৯৮২-র আইসিসি ট্রফির তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে ইউসুফ বাবু পাপুয়া নিউগিনির বিরুদ্ধে হাঁকিয়েছিলেন অনবদ্য ১১৫ রান…ইউসুফ বাবুর শতকের পরও দূভার্গ্যক্রমে সে খেলায় ৩ উইকেটে হেরে গিয়েছিলো বাংলাদেশ দল(২২৪)…এর আগে আরেক প্রীতি ম্যাচেও ইউসুফ বাবু রুশ উইক সিসির বিরুদ্ধেও অপরাজিত ১১২ রান তুলে সেঞ্চুরীর মুখ দেখেছিলেন…

…এছাড়া দেশের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরী হাঁকানোর নজীড় গড়েছিলেন মারকুটে ব্যাটসম্যান রফিকুল আলম রফিক…১৯৮৪ সালে ঢাকায় অনুষ্টিত ১ম দক্ষিন পূর্ব এশিয় আইসিসি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ টাইর্গাসের হয়ে খেলে রফিক ৩ ছক্কা ও ১৬টি দর্শনীয় চারের মার মেরে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে মনমাতানো ১২৯ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন…খেলায় রফিকের সেঞ্চুরীর সুবাদে বাংলাদেশ টাইর্গাস(৭/২৪২) শোচনীয় ভাবে ১৭৫ রানে হারায় সিঙ্গাপুরকে(৬৭)…সেবার টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের দুটো দল অংশ নিয়েছিলো…আসরে হংকংকে(১৫১) ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো রকিবুলের নেতৃত্বে মূল বাংলাদেশ দল…আর এটাই ছিলো আইসিসির কোন আসরে প্রথম ট্রফি জয়ের রের্কড…ফাইনালের ম্যাচ সেরা ছিলেন লিপু…

100-zahir…বাংলাদেশের ক্রিকেটে জাতীয় দলের দুই উদ্বোধনী তারকা ব্যাটসম্যান চাচা-ভাতিজা দ্বয়ের দুটো কৃতিত্বও ওমর হয়ে আছে এবং জ্বলজ্বলে হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাঁতায়…আইসিসির স্বীকৃত ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম হাফ সেঞ্চুরীটি এসেছিলো আজহার হোসেন শান্টুর ব্যাট থেকে…১৯৯০ সালে সারজাহতে অনুষ্টিত অষ্ট্রেলেশিয়া কাপে লিপুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল প্রথম শক্তিশালী বড় দুদল অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলো…আসরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নির্ভরশীল ওপেনার শান্টু দেশের হয়ে ওয়ানডে আর্ন্তজাতিক ম্যাচে প্রথম অর্ধশত রান তুলে নজড় কেড়েছিলেন…১২৬ বলের মোকাবেলায় শান্টু সর্বোচ অনবদ্য ৫৪ রান হাঁকিয়েছিলেন…অতঃপর চাচার পথ ধরেই যেন ইতিহাসের পাঁতায় ভাতিজা মেহরাব হোসেন অপিও নিজের নামটি লিখিয়ে নেন স্থায়ী ভাবেই…ঢাকা ষ্টেডিয়ামে সফরকারী জিম্বাবের বিরুদ্ধে নিজের ৫ম ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেই ষ্টাইলিশ ওপেনার অপি দেশের হয়ে মনমাতানো এবং চোঁখ জুড়ানো প্রথম শতকটি তুলে নিয়ে রীতিমত চমকই দেখান…১১৬ বলে দুটো প্রচন্ড ছক্কা ও ৯টি দর্শনীয় বাউন্ডারীর সাহায্যে অপি দৃষ্টিনন্দন ১০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন…অপির তাক লাগানো শতকের পরও বাংলাদেশ সে ম্যাচে ৫ উইকেটে ২৫৭রান তুলে নিয়েও ৩ উইকেটে হেরেছিলো…

…উপরে উল্লেখিত অনন্য কীর্তি গুলো আজকের অনেকেরই অজানা থাকারই কথা…আবার পুরানোদের অনেকের কাছেই সে স্মৃতিগুলো মুছে যাবার মতই অনেকটা…কারন স্মৃতি সংরক্ষনের কোন ব্যাবস্থাই যে ক্রিকেট বোর্ড করেননি কোন কালেই…যা কিনা অবশ্যই করনীয় ছিলো সেই প্রথম থেকেই…যাকগে সে কথা যা করা হয়নি তা পরে করলেই হলো…এর বাইরে বিশেষ করে টেষ্টে ক্রিকেটের আরো ৪টি শতকের ওমর কীর্তির কথা আলাদা ভাবে না তুলে ধরলেই নয়…এসব অনন্য কীর্তির কথা অবশ্য সবারই যানা…ঘটনা গুলো যে খুব বেশী দিন আগের নয়…এর মাঝে আবার ৩টি অতুলোনীয় নজীড় গড়া হয়েছিলো ডেবু টেষ্টেই…আর তাহলো ২০০০ সালে টেষ্ট ক্রিকেটের সূচনাতেই ঢাকা ষ্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের প্রথম টেষ্টেই চমক জাগানো মন ছুয়ে যাওয়া সেঞ্চুরি…৩৮০ বল খেলে খ্যাতিমান ব্যাটসম্যান বুলবুল সর্বোচ ১৪৫ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন…যার মাঝে ছিলো ১৭টি দর্শনীয় চারের মার…

…বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিস্ময়কর ক্ষুদে প্রতিভা যাকে বলা হত সেই আশরাফুলের অসাধারন কীর্তিটা শুধু আমাদের ইতিহাসের পাঁতায় নয় বিশ্ব ক্রিকেটরে রের্কড বুকেও স্থান করে আছে…শ্রীলংকার মাটিতে জীবনের প্রথম টেষ্টেই মনোমুগ্ধকর শতরান হাঁকিয়ে সেদিনের ক্ষুদে বালক আশরাফুল গোটা ক্রিকেট দুনয়ায় চমক জাগান বিশ্ব রের্কড গড়ার মাঝে…২০০১ সালে সবচেয়ে কম বয়সে টেষ্টে শতরানের রের্কডটি করেছিলেন সেদিন আশরাফুল দর্শনীয় ১৬ চারের মাঝে নয়নজুড়ানো ১১৪ রান তুলে নিয়ে…নিজের মাত্র ১৭ বছর ৬৩ দিনে ওর্য়াল্ড রের্কডটি গড়েছিলেন আমাদের ক্রিকেটের বড় তারকা ব্যাটসম্যান আশরাফুল…বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা লংকান স্পিনার মুরালীধরন সেদিন আশরাফুলের শতকে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে নিজের ম্যাচ সেরার প্রাপ্ত অর্থটা ভাগ করেছিলেন আশরাফুলের সাথে…

100-tamim-…বোলার অলরাউন্ডার হিসেবেই খ্যাত ছিলেন আবুল হোসেন…২০১২ সালে জীবনের প্রথম টেষ্টেই প্রথম ইনিংসে দশ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেই খুলনা ষ্টেডিয়ামে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরী হাঁকিয়ে আরেক চমক দেখিয়ে অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন আবুল হোসেন…১২৩ বলে দর্শনীয় ১৪ বাউন্ডারি ও ৩টি বিশাল ছক্কার মার মেরে আবুল তুলে নিয়েছিলেন মনমাতানো ১১৩ রান…

…অলরাউন্ডার সোহাগ গাজী নিজের সপ্তম টেষ্টেই বিশ্ব রের্কড গড়ে রীতিমত চমকে দেন ক্রিকেট বিশ্বকে…২০১৩ সালে চট্রগ্রাম টেষ্টে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মনমাতানো সেঞ্চুরীর পাশাপাশি চোঁখজুড়ানো হ্যাট্রিক করে গর্ব করার মত অনন্য অসাধারন নজীড় স্থাপন করেছিলেন প্রথম বারের মত…প্রথম ইনিংসে ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সোহাগ গাজী ১০১ রান তুলে অপরাজিত শতরান হাঁকান…১৬১ বলে দুষ্টি নন্দন ১০ বাউন্ডরী ও ৩টি প্রচন্ড ছক্কার মার ছিলো গাজীর ১০১ রানের ইনিংসে…এরপর নিউজিল্যান্ডের ২য় ইনিংসের ৮৫ ওভারের ২-৩-৪ নম্বর বলে যথাক্রমে এন্ডারসন-ওয়াটলিং ও ব্রেসওয়েলকে ড্রেসিং রুমে ফিরিয়ে দিয়ে চমকপ্রদ হ্যাট্রিকটি করেছিলেন সোহাগ গাজী…সেঞ্চুরীর পাশে ২+৬=৮ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যচ সেরাও ছিলেন সোহাগ গাজী…মূলত সোহাগ গাজীর অতুলোনীয় চৌকস নৈপূন্য আর মোমিনুলের অসাধারন (সর্বোচ ১৮১ রান) ব্যাটিংয়ের কল্যানে টেষ্টটি ড্র করা হয়েছিলো…

…বাংলাদেশের ক্রিকেট পাগল কোটি কোটি ভক্তদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে টেষ্ট ক্রিকেটে দুর্লভ প্রথম ডবল সেঞ্চুরীটি উপহার দিয়েছিলেন আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে দায়িত্বশীল ও নির্ভার ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাত মুশফিক…২০১৩ সালে শ্রীলংকার মাটিতে ৩২১ বলের মোকাবেলায় ১টি ছক্কা ও ২২টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারী হাঁকিয়ে ঠিক ২০০ রান সংগ্রহ করে এই অনন্য নজীড় গড়েছিলেন মুশফিক…এটেষ্টে মুশফিকের দ্বি শতকের মাঝে নাসির ১০০ ও আশরাফুল ১৯০ রান তুলে নিলে বাংলাদেশ দল শ্রীলংকার বিরুদ্ধে রের্কড পরিমান সর্বাধিক ৬৩৮ রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলো…ফলে টেষ্টে ফলাফল আসেনি…

…২০১৫ সালের অষ্ট্রেলিয়া বিশ্ব কাপে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রথমত বটেই টানা দু খেলায় শক্তিশালী ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরীর অসাধারন রের্কড গড়ে যেন ইতিহাসই গড়েছেন…মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুষ্টিনন্দন ১০৩ রান করার পর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চোঁখজুড়ানো অপরাজিত ১২৮ রান তুলে দারুন চমক দেখান…

…এসব ওমর কীর্তির মাঝে সব শেষে আরো কটি দৃষ্টান্তের কথা না তুলে ধরে পারছিনা…স্বাধীনতাত্তোর ঢাকা লীগের প্রথম হাফ সেঞ্চুরীর কথা…যা আসে ফুটবলার হিসেবে বহুল আলোচিত ও খ্যাত সালাউদ্দিনের ব্যাট থেকেই…যিনি এমহুর্তের বাফুফে সভাপতি…১৯৭৩-৭৪ মরসুমে ঢাকা লীগের প্রথম ম্যাচেই সালাউদ্দিন আজাদ বয়েজের হয়ে ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে ৫৭ রান তুলে প্রথম অর্ধশতকের ইনিংসটি উপহার দিয়েছিলেন…

…দেশের ক্রিকেটের প্রান কেন্দ্র বলতেই ঢাকাকে বুঝি আমরা…তবে একটা সময় ছিলো ঢাকার পরেই নাম ছিলো বিশেষ করে চট্রগ্রাম জেলার…এ জেলা থেকেই একটা সময় অনেক খ্যাতিমান ক্রিকেটারই উঠে আসে…এমনকি জাতীয় দলেও ঠাই পায় বেশ কজন…বলা যায় ঢাকার পরই চট্রগ্রাম জেলার ক্রিকেট ছিলো সে সময় বেশ আলোচিত ও সমাদৃত…আর ১৯৭৯-র সেই চট্রগ্রাম ক্রিকেট লীগে অপরাজিত ১০৫ রান তুলে ইকবাল খাঁনই প্রথম শতরান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন…এই ইকবাল খাঁন হলেন আমাদের ক্রিকেটের গর্ব দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল ও জাতীয় দলের প্রাক্তন ওপেনার নাফিস ইকবালের বাবা এবং জাতীয় দলের প্রাক্তন দলনায়ক ও বোর্ড পরিচালক আকরাম খাঁনেরই বড় ভাই…বাবার মতই শতরানের অনেক গুলো কীর্তি গড়েছেন তামিম ইকবাল…লোকাল ক্রিকেটে টানা ৩ শতক ছাড়াও এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে টানা দুসেঞ্চুরীর(১১৬* ও ১৩২) পাশে ডবল সেঞ্চুরীর(২০৬) অনন্য কৃতিত্বও দেখিয়েছেন তামিম…এছাড়াও তামিমের আছে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে টানা দুটেষ্টে(১০৩ ও ১০৮) শতকের রের্কড…তামিমের বড় ভাই নাফিস অবশ্য একটি ম্যাচে ২০০৫ সালে জিম্বাবের বিরুদ্ধে টেষ্টে শতক(১২১ রান) হাঁকিয়েছিলেন…নাফিস ইকবালই চট্রগ্রামের প্রথম টেষ্ট সেঞ্চুরীয়ান ব্যাটসম্যান…জাতীয় দলের হয়ে দু ভাইয়ের সেঞ্চুরীর প্রথম রের্কডটা নাফিস-তামিমই গড়ে ইতিহাসের পাঁতায় নাম লিখিয়ে রাখলেন.. কে যানে কবে কখন আবারও অন্য কোন দু ভাই সে রের্কড করে কিনা…

 

3 Responses to “ইতিহাসের পাঁতায় দেশের ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরীর অজানা স্মৃতিকথা”

  1. Rqib hasan

    Jun 30. 2015

    BCB should look after these hilarious histories and dignify those who made these histories for our country….

    Reply to this comment
  2. rizvee

    Sep 21. 2015

    we know Tamim and Nafis….but don’t know their father was the first centurion in Chittagong cricket….thanks to share the information.

    Reply to this comment

Leave a Reply